করোনা বনাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

করোনা কোন যুদ্ধ নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি একটি সংগ্রাম

আপনার কথায় এটা যুদ্ধ হোক অথবা আমার কথায় এটা সংগ্রাম হোক। সেটা মোকাবেলায় মূল কথা। বিজ্ঞানের ভাষায় এই করোনা মোকাবেলার জন্য যা যা প্রয়োজন তাঁর একটা সংক্ষিত লিস্ট করা যাক :
১. সামাজিক দূরত্ব (যদিও এটাকে শারীরিক দূরত্ব বলা ভালো),
২. পর্যাপ্ত পরিমানে মিনালের, ভিটামিন ও প্রোটিন জাতীয় খাবার,
৩. সু -চিকিৎসা (লাইফ সাপোর্ট সহ)
(আরও অনেক আছে যেগুলো মুখ্য নয় বা এইখানে আলোচনার বিষয় নয়)

এবার নিচের ২টি ছকে আমরা কিছু পরিসংখ্যান দেখে আসি। পরিসংখ্যান গুলো ওয়ার্ল্ডওমিটার, উইকি এবং অন্যান্য সূত্র থেকে নেয়া।

Position CountryHDIPer CapitaReligion
1 (15,856)San Marino0.875[4]$60,651[3] 97% Catholicism
3% Other
2 (11236)Vatican Cityunknown$21,198Catholicism
3
(9,552)
Andorra0.857[9]$42,03548.8% Andorrans
25.1% Spanish
12% Portuguese
4.4% French
9.7% others
4
(5,947)
Luxembourg0.909[5]$112,045[3] Many religions are supported by the State[1]
5
(5,251)
Iceland 0.938[6]$75,700[4]Church of Iceland
154
(33)
Bangladesh0.614[11]$5,453[9] 89.5% Islam
8.5% Hinduism
0.6% Buddhism
0.4% Christianity
Position = মিলিয়ন প্রতি কেস , HDI = মানব উন্নয়ন সূচক (Date: 27/04/2020)

PositionCountryHDIPer CapitaReligion
1
(1208)
San Marino0.875[4]$60,651[3]97% Catholicism
3% Other
2
(612)
Belgium 0.919[7]$48,224[562.8%% Christianity
29.3% No religion
6.8% Islam
1.1% Other
3
(518)
Andorra0.857[9]$42,03548.8% Andorrans
25.1% Spanish
12% Portuguese
4.4% French
9.7% others
4
(496)
Spain0.893[10] $43,007[8]68.9% Catholicism
27.1% No religion[d]
2.8% Other
1.1% Did not answer
5
(441)
Italy 0.883[6]$40,470[4] 91.5% Italians
8.5% others
132
(0.9)
Bangladesh0.614[11]$5,453[9] 89.5% Islam
8.5% Hinduism
0.6% Buddhism
0.4% Christianity
Position = মিলিয়ন প্রতি মৃত্যু, HDI = মানব উন্নয়ন সূচক (Date: 27/04/2020)

এবার একটু সুক্ষ ভাবে দেখি। উপরে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন দেশের করোনা মোকাবেলার উপকরণের কোন কমতি আছে ?
১. ওনারা খুব সহজেই সামাজিক দূরত্ব / শারীরিক দূরত্ব করতে সক্ষম। কারণ ওনাদের জনসংখ্যা ওনাদের ভূমির তুলনায় অনেক কম।
২. পর্যাপ্ত পরিমানে মিনালের, ভিটামিন ও প্রোটিন জাতীয় খাবার কেনার জন্য টাকা ও পরিবেশ সবই ওনাদের আছে। যদি কোনো কিছুর কমতি মনে করেন তা হলে সরকার আছেন জোগান দেয়ার জন্য।
৩. সু -চিকিৎসা যার চূড়ান্ত লাইফ সাপোর্ট চাইলেই তারা নিমিষে কিনতে পারে কোন টাকার অভাব নাই। যদিও এখন টাকা থেকে কোনো লাভ নাই, যোগান একদমই নাই।

এবার বাংলাদেশে আসা যাক :
১. আমরা পারবো না সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে: আমার মনে হয় আমরা যারা ঢাকা সহ বাংলাদেশের সিটি গুলোতে থাকি সবাই যদি একযোগে রাস্তায় এবং খোলা জায়গায় (সিটির) নেমে আসি তা হলে মানুষের পায়ের নিচে ৫০% মানুষ পিষ্ট হয়ে যাবে। সেখানে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব কোনো ভাবেই সম্ভব না। যা এত পৃথিকীকরণের পরেও বাজার ঘাটে দেখা যাচ্ছে।

২. পর্যাপ্ত পরিমানে মিনারেল, ভিটামিন ও প্রোটিন জাতীয় খাবার: বাংলাদেশের ৯০% লোকের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। যদিও আমরা পহেলা বৈশাখ ছাড়া পান্তা খাই না। এই অবস্থায় মিনালের, ভিটামিন ও প্রোটিন। আমাদের গ্রামের ভাষায় “পেটে ভাত নাই, আবার চা . . . . .” এর মতই। অনেকেই ভাবতেছেন এই পাগলে বলে কি? বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। হ্যাঁ তা ঠিক অবশ্যই খাতা কলমে। আমি জানি না আপনাদের কি অবস্থা এই ক্ষেত্রে আমি আমার ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা বলছি। আমি সাধারণত প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বাসা ভাড়া দেই। গত মাসের ভাড়া আমি পরে দিতে চাচ্ছিলাম। কারণ পরিস্থিতি কি হয় তা বলা যায় না। আমার বাসার কর্ণধার অস্ট্রিলিয়া থাকেন ওনার এক পরিচিত আছেন উনি টাকা নিয়ে নিয়ে অস্ট্রিলিয়া পাঠান। উনি গত ২১ তারিখ যা বললেন তা শোনার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে আমার খাবার ও বাজার গুলো বিক্রয় করে ভাড়া দেই। বাসার কর্ণধার অস্ট্রেলিয়ায় খুব কষ্টে আছেন তাঁর ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ ওনাকে এখনই টাকা পাঠাতে হবে। এবার বলেন আলুভর্তা ভাত খাবো, বাসাভাড়া দিবো না পুষ্টিকর খাবার খাবো।

৩. সু -চিকিৎসা (লাইফ সাপোর্ট সহ): খুব বেশি কিছু বলা যাবে না। দয়া করে পত্র-পত্রিকা গুলো দেখে নিবেন। এখানে একটা সুপরিচিত ডায়লগ দেয়া ছাড়া আমার বলার কিছুই নাই “বলা যাবে না, বললে চাকরি থাকবে না”

দেশের এই সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা যখন হোম কোয়ারেন্টিনে যাই তখন সরকার বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিক ছিল। আমরা যারা চাকরি করি বা কাজে ব্যাস্ত থাকি সবার একটা স্বপ্ন দেখছিলো, অফিস ছুটি দেয় না কতদিন ঘুমাই না। এই ব্যস্ততা আর ভালোলাগে না। কে জানতো এই ছুটি আমাদের একেবারেই ধীরে ধীরে চাকরী চুত্তি বা বেকার করে দিবে? এত দিন আমরা সবাই ছুটি চাইছি এখন আমরা কাজ চাই। জানি উপরের লিখা গুলো পড়ে যারা এত্তক্ষন আমার সাথে ছিলেন তারা এখন নাই। কারণ ওনাদের অনেকেই এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করবেন না। আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছি এই লিখা পড়ছি ওনাদের প্রায় সবারই তিন মাস ব্যাকআপ দেয়ার ব্যাবস্থা আছে। মনে রাখতে হবে এই আমাদের % কত?

একটা খুবই ক্ষুদ্র বিষয়ে আলোচনা করা যাক। আমাদের দেশে এখন ধান মাড়াই চলছে। এই ধান মাড়াই এর সাথে সম্পৃক্ত যে কৃষক ও শ্রমিক ভাই জড়িত আছেন ওনারা যদি হোম কোয়ারেন্টিন করেন তা হলে ধান মাড়াই হবে না। ধান মাড়াই না হলে ওনারা ১ মাস পরে সংকটে পড়বেন। চালের যা মজুত আছে তা দিয়ে আমরা জেন্টেলম্যানগণ ৩ মাস খাবো এর পরে কোথায় পাবেন চাল?? আমদানি করবেন ?? অন্য দেশের কৃষক ও শ্রমিক ভাইরা হোম কোয়ারেন্টিন করবেন না?

চট্টগ্রামে লে অফ ৬৫ কারখানা, প্রক্রিয়াধীন আরও ৩০, দ্যা ডেইলি স্টার এর একটি খবর। এমন অনেক ছোট বড় উৎপাদন ও রপ্তানিকারক কোম্পানি আজ গুটিয়ে নিবেন। তখন আমি জেন্টেলম্যান এবং ঐ শ্রমিকের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকবে না।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কি আমরা জানি। সরকার কতদিন আমাদের বাসায় খাবার পাঠাতে পারবেন তাও কম বেশি আমাদের জানা। এর সেই ১৯৭১ সালের চোরেরা এখন সংখ্যায় কত তাও পত্র পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে জানা হল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আন্তরিক সালাম। সত্যি এই সালাম অন্তর থেকে। মনে করবেন না সংসদে আপনাকে হজরত বলে সম্বোধন করে যা বলা হয়েছিল এমন একটি সালাম এটা। আপনাকে সালাম এই কারণে করোনা সহ যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনি দেশের জনগণের জন্য করেন বা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। আপনার আসেপশে যারা আছেন আমার মনে হয় ৯৯% ব্যাক্তি ১০০% চোর। এমন পরিস্থিতিতে আপনি একাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আপনার জন্য দোয়া।

আপনার কাছে একটি বিনীত অনুরোধ দয়া করে লকডাউন খুলে দেন। পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশ, অনেক সমৃদ্ধশালী দেশ, অনেক ক্ষমতা ধর দেশ এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছেন না আর পারবেনও না। কারণ করোনা নামক অদৃশ্য জিনিসটার পিছনের সত্তা অনেক বড়। হার্ভার্ডের গবেষণা বলছে দূরত্ব মানতে হবে আরও দু’বছর, ভ্যাকসিনের গবেষনা হচ্ছে আগামী বছরের জন্য, জাপানের ওষুধ টেস্ট শেষ করতে ৬ মাস। বাংলাদেশ সরকার কি পারবেন এত দিন বাংলাদেশের জনগণকে খাদ্য দিতে? মহান রাব্বুল আলামিন ভালো জানেন। আমার চোখের সামনে শুধু মাত্র জয়নুল আবেদীনের সেই ছবিগুলো ভেসে ওঠে।

ইতালির প্রেসিডেন্ট (“Our only hope remains up in the Sky, God rescue your people”) সহ অনেক দেশের প্রধানগণ এখন ওনাদের জনগণকে আকাশ এবং সৃষ্টিকর্তা দেখাসসেন। এমতাবস্থায় আমি দুটো হাদীস বলতে চাই

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ (ছ) বলেছেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই এবং ছফর মাস ও পেঁচার মধ্যে অমঙ্গল বলে কিছু নেই। তখন একজন গ্রাম্য লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল ! তবে আমার উটগুলোর এ দশা হল কেন ? এগুলো ছিল চারণ ভূমিতে, দেথতে বন্য হরিণের মত সুন্দর। তারপর সেখানে একটি চর্মরোগাক্রন্ত উট আসল। আমার উটগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ল। এবং সেগুলোকেও চর্মরোগাক্রন্ত বানিয়ে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছ) বললেন, তবে প্রথম উটটির মধ্যে রোগ সৃষ্টি করল কে ? ——৫৩০২, বোখারী শরীফ।

নবীপত্নি হযরত আয়েশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি। প্লেগ রোগ সম্পর্কে নবী করীম (ছা) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা) তাকে জানালেন যে, এর সূচনা হয়েছিল, আযাবরূপে। আল্লাহ যাদের উপর ইচ্ছা করেন তা প্রেরণ করেন; কিন্তু আল্লাহ একে ঈমানদারদের জন্য রহমতস্বরূপ বানিয়ে রেখেছেন। কোথাও যদি প্লেগ, মহামারী ছড়িয়ে পড়ে, যে বান্দা একথা জেনে বুঝেই ধৈর্যধারণ করে সেই শহরে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে দিয়েছেন, তা ছাড়া আর কোন বলা-মুছীবত তার উপরে আসবেন না। তবে সেই বান্দা শহীদের সমতূল্য ছওয়াব পাবে। ——৫৩১৭, বোখারী শরীফ।

দেশের এই ক্রান্তিকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জনগণের জন্য কিছুই করতে পারবেন না। কারণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ কে ইউরোপ – আমেরিকার মত উন্নত করা। ইউরোপ – আমেরিকা কি করোনা মোকাবেলা করতে পারছেন? আমরা যে করোনা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত নই এটার একটা বড় প্রমান / একটি সুন্দর উদাহরণ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলা নিয়ে যে লুকোচুরি খেলা। করোনা বলে খোলা যাবে না, পেট বলে খুলতে হবে।

দয়া করে আমাদের জয়নুল আবেদিনের কোন ফ্রেমে স্থান করে দিবেন না। বাংলাদেশের ৯০% জনগণ মুসলমান। আমরা আল্লাহর উপরে ১০০% বিস্বাস করে কাজে যেতে চাই। আপনাদের যদি কিসু করার থাকে তাহলে টেস্টকিট গুলো প্রতিটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার অনুমতি ও এর মূল্য নিদ্ধারণ করেদেন। রিকশার পিছনে লেখা একটা বাণী “রাখে আল্লাহ মারে কে”

“আল্লাহুমা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া মিন ছাইয়্যি ইল আসকম” অর্থ: হে আল্লাহ অবশ্যই আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ,কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার মারাত্নক ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।